ছাত্রজীবনের দায়িত্ব কর্তব্য || রচনা
সূচনা: মানুষের জীবনে প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যা অর্জনের সময়টিই হলো ছাত্রজীবন। এসময়েই রচিত হয় মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি। লেখাপড়ার পাশাপাশি সুন্দর জীবন গঠনের শিক্ষা এসময়েই অর্জন করতে হয়। এক্ষেত্রে সামান্য অবহেলা সারা জীবনকেই নষ্ট করে দিতে পারে। তাই ছাত্রজীবনে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে প্রয়োজন সতর্কতা, নিষ্ঠা ও সমুজ্জ্বল জীবনাদর্শ।
ছাত্রজীবন; বৃহত্তর অর্থে মানুষের সমস্ত জীবনই ছাত্রজীবন। তবে সীমিত অর্থে ছাত্রজীবন বলতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনকে বোঝায়। মানুষ ছেলেবেলায় প্রয়ামে মা-বাবা, আত্মীয়ডজনেরও কাছে অনেক কিছু শেখে। এরপর শিক্ষার আনুষ্ঠানিক হাতেখড়ি ষয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এখানেই মানুষের প্রকৃত ছাত্রজীবন শুরু হয়।
লেখাপড়া: মনে আগ্রহের সঙ্গে পাঠ করা প্রথম কাজ। পাঠ বোঝা এবং বলে বা লিখে তা প্রকাশ করতে পারাই লেখাপড়ার প্রাথমিক লক্ষ্য। কিন্তু কেবল মুখস্থ করে এ লক্ষ্য অর্জন করা যায় না। ভালো ভালো লেখকের বিভিন্ন বই পড়ে মনকে প্রসারিত করতে হয়। আলোচনা ও বিতর্কে অংশ নিয়ে চিন্তাশক্তির প্রসার ঘটাতে হয়। বিশেষ করে বয়স ও শ্রেণি-উপযোগী বিভিন্ন বই এবং চারপাশের দৈনন্দিন জীবন থেকেও জীবনের পাঠ নেওয়া দরকার।
স্বাস্থ্যরক্ষা: দেহ-মন সুস্থ রাখার জন্য স্বাস্থ্য পরিচর্যা ছাত্রজীবনের একটি প্রধান কর্তব্য। দেহ ও মন সুস্থ না থাকলে লেখাপড়ার কালে ব্যাঘাত ঘটে। তাই স্বাস্থ্যরক্ষায় সচেষ্ট হওয়া দরকার। এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। পরিমিত আধার, নিয়মিত ব্যায়াম ও সময়মতো খেলাধুলা করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী করতে হবে। ঘরে মা-বাবা এবং স্কুলে শিক্ষক হলেন ছাত্রদের সবচেয়ে বড়ো শুভাকাঙ্ক্ষী। তাই তাঁদের কথা মেনে চলা ও শ্রদ্বা করা উচিত। যারা বয়সে বড়ো তাদেরও সম্মান করতে হবে।
ছাত্রজীবনে সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হলো সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা। একসঙ্গে পড়াশোনা করা, খেলাধুলায় অংশ নেওয়া এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে পরস্পরের প্রতি আস্থা ও মমত্ববোধ তৈরি হয়। মিলেমিশে চলার এই অভ্যাস থেকেই জন্ম নেয় গভীর বন্ধুত্ব, যা ছাত্রজীবনকে আনন্দময় ও স্মরণীয় করে তোলে। শিক্ষাগত উন্নতির পাশাপাশি ছাত্রজীবনে চরিত্র গঠনের ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হয়। এই সময়ে সততা, ভদ্রতা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার মতো গুণগুলো অর্জন করাই প্রকৃত শিক্ষা। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ভাল মানুষ হওয়ার সাধনা ছাত্রজীবনের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। সেইসকো চাই সৌজন্য ও শিষ্টাচারের অনুশীলন। বিনয়ী, সেবাপরায়ণ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার কাজ ছাত্রজীবনের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য।
উপসংহার: ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেকে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার শিক্ষা নেওয়া উচিত। কেবল পরীক্ষা পাশ ও বেশি নম্বর পাওয়া একমাত্র লক্ষ্য হলে প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।
মা-বাবার প্রতি কর্তব্য || রচনা
সূচনা: পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে আমাদের সবচেয়ে আপনজন আমাদের মা-বাবা। বিসর্জন দিয়ে তাঁরা আমাদের লালনপালন করেন। সুখে-দুঃখে তাঁদের কাছেই আমাদের পরম নির্ভরতা। তাই আমরা তাঁদের ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। তাঁদের কাছে আমাদের ঋণ অপরিশোধ্য। পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে বলা
হয়েছে, পিতামাতার হাতে সন্তানের স্বার্থপ্তার রচিত হয়। জীবনে মা-বাবার স্থান: আমাদের জীবনে মা-বাবা স্থান সবার উপরে।
মা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। তাঁর গর্ভেই গড়ে ওঠে সন্তানের দেহ। জন্মের পর সন্তান থাকে একান্ত অসহায়। তখন মায়ের কোলই সন্তানের পরম আশ্রয়। জন্মের পর মাতৃদুগ্ধ পান করেই সন্তান পরমায়ু লাভ করে। মা পরম আদরে সন্তানকে লালন করেন। তিনি নিজে না খেয়ে তাকে খাওয়ান। বাবার ভূমিকাও সন্তানের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। বাবা সন্তানের আহারসামগ্রী ও দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর জিনিসপত্র জোগান, কখনো কখনো মা-বাবা দুজনই এসব জোগান। সন্তান চোখের আড়ালে গেলে তাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়ে। সন্তানের নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁরা থাকেন সদা সচেষ্ট। সন্তানকে মানুষ করার জন্য মা-বাবার চেষ্টা ও ত্যাগের সীমা থাকে না। অসুখে-বিসুখে তাঁরা সন্তানের নিরলস সেবা করেন। তাই আমাদের জীবনে পিতামাতার আসন অনেক মর্যাদার, অপরিসীম শ্রদ্বার।
সন্তানের আনন্দই মা–বাবার আনন্দ, আর সন্তানের যেকোনো কষ্ট তাঁদের মনেও গভীর ব্যথা তৈরি করে। সন্তান কোনো ভালো কাজ করলে কিংবা সাফল্য অর্জন করলে তাঁরা অপরিসীম গর্ব অনুভব করেন। আবার সন্তানের ভুল, ব্যর্থতা বা দুঃসময়ে সবচেয়ে বেশি বিচলিত হন মা–বাবাই। সন্তানের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা এতটাই নির্মল ও নিঃস্বার্থ যে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই তারা সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন।
সুখী, সবচেয়ে আনন্দিত। অন্যদিকে, সন্তানের দুষ্কর্মে ও অপযশে সবচেয়ে মর্মাহত হন মা-বাবাই। তাই সন্তানের জীবনে মা-বাবার মতো সুহূদ ও হিতৈষী আর নেই। আজকাল সন্তান যখন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সুন্দরভাবে নিজের জীবন গঠন করে তখন মা-বাবার সুখের সীমা থাকে না। আবার সন্তান যখন বিপদগ্রস্ত হয়, তখন মা-বাবার চোখে ঘুম আসে না। সর্বশক্তিমানের কাছে হাত তুলে তাঁরা সন্তানের মজাল কামনা করেন। এমনকি সন্তান স্বাবলম্বী হয়ে নিজ পরিবার গঠন করলেও মা-বাবা সন্তানের চিন্তায় সবসময় ব্যাকুল থাকেন। সন্তানের প্রতি মা-বাবার অনুভূতি এতখানিই গভীর ও গাঢ়।
আমাদের প্রথম কর্তব্য মা-বাবার অনুগত হওয়া। তাঁদের আদেশ-উপদেশ মেনে চলা। মা-বাবা অনেক সময় আমাদের শাসন করেন। সেটা করেন আমাদের কল্যাণের কথা ভেবে। তাই মা-বাবার শাসনে কৃষ্ণ হওয়া উচিত নয়। মা-বাবার প্রতি আমাদের আচরণ হবে মধুর। তাঁরা দুঃখ বা কষ্ট পান এমন কোনো কাজ করা, এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়। মা-বাবার সেবা করাও আমাদের অন্যতম কর্তব্য। তাঁরা অসুস্থ’ হলে তাঁদের সেবা-যত্ন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বার্ধক্যে তাঁরা যখন দুর্বল ও যীনশক্তি হয়ে পড়েন, তখন হাসিমুখে তাঁদের সব দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়া আমাদের নৈতিক কর্তব্য।
ভাই তদে
সন্তান যদি সমাজে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা অর্জন করে তবে মা-বাবার বুক- বুক আনন্দে ভরে ওঠে। সন্তান চরিত্রবান ও জ্ঞানীগুণী হলে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল হয়। তাঁরা সুখী হন। সেজন্যে সবার উচিত শিক্ষায়, কর্মে ও আচরণে সত্যিকারের মানুষ হয়ে ওঠা। যেসব কাজ করলে মা-বাবার দুঃখ পান সেগুলো পরিহার করা সন্তানের কর্তব্য।
করে
ধনের
উপসংহার: আমরা তাদের চেয়ে অনেক সুখী। মা-বাবার সন্তুষ্টি বিধান করার উপরই আমাদের কল্যাণ নির্ভর করে। মা-বাবাকে কোনোভাবেই দুঃখ দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের উপযুক্ত সম্মান দেখাতে হবে। তাঁদের সুখী করতে পারলে আমরাও সুখী হব। বিধাতাও আমাদের প্রতি সদয় হবেন।
জলবায়ু পরিবর্তন || অনুচ্ছেদ রচনা
তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটায় বিশ্বের প্রতিটি দেশে বিশেষ করে বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ইত্যাদির মাত্রা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিপর্যয়ের ফলে মানুষের জীবন আজ হুমকির সম্মুখীন। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, বৃক্ষনিধন, শিল্পকারখানা স্থাপন, দূষণ ও নগরায়ণের ফলে আবহাওয়ায় একটি দীর্ঘস্থায়ী বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। এটিই জলবায়ু পরিবর্তন। তবে বৈশ্বিক উদ্বায়নই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বিজ্ঞানীদের মতে, গত দশ বছরে যেসব ঝড়, বন্যা ও দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে তা এ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রত্যক্ষ ফল। অথচ পরিবেশের উপর মানুষের প্রভাব বিস্তার বেড়েই চলেছে। একদিকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস নির্গমন ক্রমাগত বাড়ছে, অন্যদিকে উন্নায়ন’-এর নামে প্রতিনিয়ত বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে। ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আরও বেশি পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লোরো কার্বনসহ আরও কিছু মারাত্মক ক্ষতিকর গ্যাস মজুত হয়ে গ্রিনহাউজ প্রভাব সৃষ্টি করছে। এসব গ্যাসের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের বাইরের দিকে যে ওজোন গ্যাসের আবরণ আছে, তা ক্রমেই ক্ষয় হচ্ছে। এ কারণে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির আগমন আগের মতো আটকানো যাচ্ছে না। ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়ছে। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ। বাড়বে, সমুদ্রের পানিতে প্লাবিত হতে থাকবে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বাংলাদেশেরও একদিকে মরুকরণ, অন্যদিকে বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। তাই বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মহলের যেমন নজর দেওয়া উচিত, তেমনিভাবে আমাদেরও উচিত নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের করাল গ্রাস থেকে মুক্তির উপায় বের করা
দিনমজুর || অনুচ্ছেদ রচনা
দিনমজুর সেই মানুষ, যিনি প্রতিদিনের কাজের বিনিময়ে মজুরি পান। তারা মূলত মাঠের কাজ, নির্মাণশ্রম, সড়ক সংস্কারসহ শারীরিক পরিশ্রমনির্ভর শ্রমে যুক্ত থাকেন। ভোরে কাজ শুরু করে প্রায়ই সূর্যাস্ত পর্যন্ত শ্রম দিতে হয় তাঁদের। অনেক সময় প্রচণ্ড রোদ, হঠাৎ বৃষ্টি কিংবা শীতল বাতাসকেও উপেক্ষা করে কাজ করতে হয়।
তাদের জীবনের মান সাধারণত খুব সীমিত। দৈনিক আয় কম হওয়ায় পরিবারের সব প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ দিনমজুর দরিদ্রতার মধ্যেই বাস করেন, ফলে সন্তানদের মৌলিক চাহিদা—খাবার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা—অনেক সময় যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হয় না। কোনো দিন কাজ না পেলে পরিবারকে না খেয়ে বা অপ্রতুল খাবার নিয়ে দিন কাটাতে হয়।
একটি দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে দিনমজুরদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের কঠোর পরিশ্রমে দেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ এগিয়ে চলে, তবুও সামাজিকভাবে তাঁরা অনেক সময় অবহেলিত রয়ে যান। তাই সঠিক মজুরি নিশ্চিত করা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং তাঁদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, একজন দিনমজুরের জীবন সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও অদম্য পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি। জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপেই তাঁদের অবদান বিদ্যমান। তাই তাঁদের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
বৃক্ষমেলা || অনুচ্ছেদ রচনা
বৃক্ষমেলা হলো এমন একটি মেলা যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা এবং চারাগাছ প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা থাকে। বৃক্ষমেলার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতন করে তোলা। একটি দেশের স্বাভাবিকভাবে প্রায় ৪০ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দেশে সেই পরিমাণে বনভূমি নেই। তাই বৃক্ষরোপণকে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর আমাদের দেশে বৃক্ষমেল্য আয়োজন হয়ে থাকে। বর্ষাকালে এই মেলার আয়োজন করা হয়, কারণ বর্ষাকাল গাছ লাগানোর পক্ষে অনুকূল সময়। বর্ষার সময়ের মাটির আর্দ্রতা চারাগাছের বৃদ্ধি এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন শহর ও গ্রামে স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্মিলিত হয়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন করে থাকে। বৃক্ষমেলায় পাওয়া বিভিন্ন প্রকার গাছের মধ্যে রয়েছে ফলদ, বনজ, ঔষধি এবং শোভাবর্ধক গাছ। ফলদ গাছের মধ্যে পাওয়া যায় আম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেল, কলা, জাম্বুরা, আতা প্রভৃতি গাছ। বনজ গাছের মধ্যে রয়েছে মেহগনি, সেগুন, গামারি, শিশু ইত্যাদি, যা কাঠের জন্য বিখ্যাত এবং বনায়নের জন্য উপযুক্ত। ঔষধি গাছের মধ্যে তুলসী, নিম, অশ্বগন্ধা, ঘৃতকুমারী প্রভৃতি গাছ। এছাড়া, শোভাবর্ধনকারী গাছের মধ্যে রজনিগন্ধা, গাঁদা, বাগানবিলাস, কামিনী, ডালিয়া, গোলাপ, দোলনচাঁপাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পাওয়া যায়, যা আমাদের চারপাশের পরিবেশকে নান্দনিক করে তোলে। প্রতি বছর ৫ জুন বৃক্ষমেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গাছ নিয়ে আসেন, বিভিন্ন নার্সারির মালিকেরা। প্রায় এক মাসব্যাপী এই মেলা চলে। বৃক্ষমেলা শুধু বৃক্ষ কেনাবেচারই জায়গা নয় বরং সচেতনতা সৃষ্টি এবং বৃক্ষের প্রতি আমাদের ভালোবাসার বীজ রোপণেরও একটি উপযুক্ত স্থান।
জুলাই বিপ্লব: ২০২৪ || অনুচ্ছেদ রচনা
বাংলাদেশে ২০২৪ সালে যে ব্যাপক বৈষম্যবিরোধী গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, পরবর্তীতে তা জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত হয়। এ আন্দোলনের পটভূমিতে ছিল ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা এক সিদ্ধান্ত, যা ২০২৪ সালের ৫ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ পুনর্বিবেচনা করে রায় প্রদান করে। এই ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলনটি দ্রুত জনসমর্থন পায়। বাংলাদেশ সরকারের জারি করা কোটা সংক্রান্ত পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আর এর প্রতিক্রিয়ায় নতুন করে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলন একপর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী অসহযোগ আন্দোলনে রূপ নেয়। এ আন্দোলন সারা দেশের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঢাকাসহ সারা দেশে আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠে। এসময় সারা দেশে কারফিউ জারি এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই আন্দোলনে নারীদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া আর কোনো আন্দোলনে এত ব্যাপকতা ছিল না। এটি প্রথমে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও ক্ষমতাসীন তৎকালীন সরকারের বিরোধী সব রাজনৈতিক দলই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। ফলে এটি আন্দোলন থেকে ক্রমান্বয়ে গণ অভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়। পুরো জুলাই মাসজুড়ে আন্দোলন চললেও চূড়ান্ত পরিণতি আসে ৫ আগস্ট ২০২৪। সরকার পতনের মাধ্যমে এই আন্দোলন শেষ হয়।
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর ? || সারমর্ম ও সারাংশ
মানুষেরই মাঝে স্বর্গ নরক মানুষেতে সুরাসুর-রিপুর তাড়নে যখন মোদের বিবেক পায় গো লয়, আত্মপ্পানির নরক অনলে তখনি পুড়িতে হয়। প্রীতি ও শ্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরই কুঁড়েঘরে।
সারমর্ম: স্বণ ও নরক পরলোকের ব্যাপার হলেও ইহলোকেই তার অস্তিত্ব অনুভব করা যায়। বিবেকবোধ বিসর্জন দিয়ে অপকর্মে মেতে উঠলে মানবজীবনে নেমে আসে নরক-যন্ত্রণা। আর মানুষে মানুষে প্রীতিময় সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে পৃথিবীতেই স্বর্গসুখ অনুভব করা যায়।
আসিতেছে শুভদিন || সারমর্ম ও সারাংশ
~ দিনে দিনে বস্তু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ। হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়, পাহাড়-কাটা সেই পথের দু-পাশে পড়িয়া যাদের হাড়, তোমারে সেবিতে হইলো যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি, তোমারে বহিতে যারা পৰিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি, তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদের গান, তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান।
সারমর্ম: শ্রমজীবী মানুষের অবদানের জন্যই মানবসভ্যতার অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। অথচ প্রায়ই আমরা তাদের অবদানকে অস্বীকার করি। কিন্তু তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া আমাদের একান্ত কর্তব্য।
জরিমানা মওকুফের জন্য প্রধান শিক্ষকের নিকট আবেদন।
৩ মার্চ ২০২৫
প্রধান শিক্ষক
বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল
বিষয়: জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদন।
মহোদয়
বিনীত নিবেদন এই, আমি আপনার বিদ্যালয়ের সন্তপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। আমি বরাবরই যথাসময়ে স্কুলের বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করে আসছি। কিন্তু আমার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় আর্থিক সংকটের কারণে আমি নির্দিষ্ট সময়ে বেতন পরিশোধ করতে পারিনি।
অতএব, সবিনয় নিবেদন, বেতন পরিশোধে আমার অনিচ্ছাকৃত বিলম্বের জন্য যে জরিমানা হয়েছে তা মওকুফ করে বকোয়া বেতন পরিশোধের অনুমতি প্রদান করে বাধিত্ব করবেন।
নিবেদক
আপনার একান্ত অনুগত ছাত্র
ফারহানা মিলি
শ্রেণি: সপ্তম
রোল নম্বর: ৩
স্কুলে সুগের পানির ব্যবস্থা করার জন্য প্রধান শিক্ষকের নিকট আবেদন।
৩ মার্চ ২০২৫
প্রধান শিক্ষক
রংপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়
রংপুর
বিষয়ঃ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার জন্য আবেদন।
মহোদয়
বিনীত নিবেদন এই, আমরা রংপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শহরের নামকরা দু-চারটি বিদ্যালয়ের মধ্যে আমাদের বিদ্যালয়টি অন্যতম। এখানে অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। স্কুলে অবস্থানের সময় প্রত্যেকের পানি পান করার প্রয়োজন হয়। আমরা জানি, পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ের নলকূপটি আর্সেনিকমুক্ত না হওয়ায় আমরা বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে আছি। এ অবস্থায় আমাদের বিদ্যালয়ে অতি দ্রুত একটি আর্সেনিকমুক্ত নলকূপ স্থাপন করা প্রয়োজন।
অতএব, মহাশয়ের নিকট বিনীত প্রার্থনা, অবিলম্বে আমাদের বিদ্যালয়ে করে দেবেন। একটি আর্সেনিকমুক্ত নলকূপ স্থাপন করে বিশুদ্ধ পানি পানের সুযোগ
নিবেদক
রংপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষে
সুজানা ইয়াসমিন
শ্রেণি: সপ্তম
রোল নম্বর: ১
বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ক্লাব প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রার্থনা প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদনপত্র লেখো।
বরাবর
প্রধান শিক্ষক
……………………… বিদ্যালয়
……………………… (জেলা)
বিষয়: বিজ্ঞান ক্লাব প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রার্থনা।
মান্যবর,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমাদের বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে। বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম, প্রকল্প নির্মাণ এবং উদ্ভাবনী চিন্তার চর্চা করার জন্য একটি বিজ্ঞান ক্লাব গঠন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। এমন একটি ক্লাব গড়ে উঠলে আমরা নিয়মিত আলোচনা সভা, বিজ্ঞান মেলা, প্রদর্শনী ও কর্মশালা আয়োজন করতে পারব, যা ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অতএব, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে বিজ্ঞান ক্লাব গঠনের অনুমতি প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।
বিনীত নিবেদক,
…………………………
শ্রেণি: …………………
রোল নং: ………………
…………………… বিদ্যালয়
তোমায় এলাকায় পাঠাগার স্থাপনের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট একটি আবেদনপত্র লেখো।
-৭ জুলাই ২০২৫
জেলা প্রশাসক
যশোর
বিষয়: পাঠাগার স্থাপনে আর্থিক সাহায্য চেয়ে আবেদন।
জনাব
আমরা যশোর শহরের শঙ্করপুরের বাসিন্দারা সম্প্রতি ‘জ্ঞানপ্রদীপ’ নামে একটি পাঠাগার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। স্থানীয় তরুণসমাজকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, অনৈতিক ও সমাজবিরোধী অপতৎপরতায় তারা যেন জড়িয়ে না পড়ে সেজন্য পাঠাগারকেন্দ্রিক নানা কার্যক্রমে তাদের যুক্ত করাই এ পাঠাগার স্থাপনের মূল লক্ষ্য। বিশিষ্ট অধ্যাপক আজিজুল হক খান, অধ্যাপক কাকলি মুখোপাধ্যায়, বিশিষ্ট সাংবাদিক অরুণ বসুসহ অনেকেই এ উদ্যোগে সার্বিক সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ব্যাপারে অধ্যাপক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটিও গঠিত হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে পাঠাগারটি স্থাপনে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি। আশা করি, জ্ঞানসমৃদ্ধ শিক্ষিত সমাজ গড়ার এ মহৎ উদ্যোগে সহায়তা করে আমাদের কৃতজ্ঞ করবেন।
নিবেদক
এলাকাবাসীর পক্ষে
কাউসার আহম্মেদ
যশোর
পাঠ্যবই বহির্ভূত কতিপয় আবেদনপত্রের নমুনা
পাঠ্যবইয়ের বহির্ভূত কতিপয় আবেদনপত্রের নমুনা
তোমার এলাকার অশিক্ষিত মানুষের পড়ালেখার জন্য নৈশবিদ্যালয় স্থাপন প্রসঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের যাচ্ছে একটি আবেদনপত্র
লেখো।
১০ আগস্ট ২০২৫
চেয়ারম্যান
মাঝগাঁও ইউনিয়ন
বড়াইগ্রাম
নাটোর
বিষয়: হায়োয়া গ্রামে নৈশবিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আবেদন।
মহোদয়
মাঝগাঁও ইউনিয়নের অন্তর্গত গারোয়া গ্রাক্কো প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ শ্রমজীবী। এদের অধিকাংশই নিরক্ষর। নিরক্ষরতার কারণে তারা গ্রামের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারছে না। অন্যদিকে অসং, সুযোগসন্ধানী ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও আদম ব্যাপারীদের হাতে অনেকেই নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছে। অনেক মজুর, মিস্ত্রি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলেও নিরক্ষরতা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রচনার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এসব শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে লেখাপড়া শেখার প্রবল আগ্রাহ রয়েছে। কিন্তু দিনের বেলায় জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হয় বলে সেসময় স্কুলে পড়ার সুযোগ তাদের নেই।
এ অবস্থায় গ্রামে একটি নৈশবিদ্যালয় স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এখানে নৈশবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় শিক্ষিত ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় পাঠ দান করতে উৎসাহী হবে। এ প্রেক্ষাপটে হারোয়া গ্রামে একটি নৈশখিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবস্থা করার জন্য আপনাকে সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।
নিবেদক
হারোয়া গ্রামের জনগণের পক্ষে
মেসবাউল হক
বিদ্যালয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য আবেদনপত্র
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
প্রধান শিক্ষক
রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রংপুর
বিষয়: চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের অনুমিত চেয়ে আবেদন।
জনাব
বিনীত নিবেদন এই যে, আগামী মাসে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠেয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা সামনে রেখে আমরা আমাদের স্কুলে আন্তঃশ্রেণি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনে আগ্রহী। এতে ছবি আঁকার ব্যাপারে আমাদের ধারণা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
অতএব, আমাদের স্কুলে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য
ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাধিত করবেন।
নিবেদক
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পক্ষে
আনিকা চৌধুরী
রোল নম্বর: ৪