বাংলাদেশের জাতীয় ফুল
[শি.স.প. ‘১৮: সেট কোড-৩২৭; শি.স.প. ‘১৫)
অথবা, জাতীয় ফুল শাপলা
[শি.স.প. ‘১৮: সেট কোড-৩২৪; শি.স.প. ‘১৭: সেট কোড-২০৬, ২১৮, ২২০, ২২৮; শি.স.প. ‘১৬: সেট কোড-৮, ১৮, ২৭/
রচনা সংকেত: ভূমিকা প্রাপ্তিস্থান জাতীয় জীবনে ব্যবহার প্রকারভেদ পরিচয় সৌন্দর্য ও ব্যবহার অপকারিতা উপসংহার।
ভূমিকা: মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সুশোভিত আমাদের এ বাংলাদেশ। শাপলা ফুল বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম অংশীদার। এদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই শাপলা ফুল পাওয়া যায়। শাপলার সৌন্দর্য ও সহজলভ্যতার কারণে এ ফুল জাতীয় ফুলের মর্যাদা পেয়েছে।
প্রাপ্তিস্থান: শাপলা জলজ ফুল। খালে-বিলে, হাওড়ে-বাঁওড়ে, বিলে-ঝিলে, পুকুরে, নদীতে এ ফুল জন্মে। এ ফুল চাষাবাদ করতে হয় না। বিনা যত্নেই ফুটে থাকে।
জাতীয় জীবনে ব্যবহার: জাতীয় জীবনে এর অনেক ব্যবহারিক দিক রয়েছে। ডাকটিকিট ও মুদ্রায় শাপলার ছাপচিত্রের ব্যবহার রয়েছে। জাতীয় প্রতীকের মর্যাদাও পেয়েছে এ ফুল।
প্রকারভেদ: শাপলা সাদা, লাল, নীল, হলুদসহ বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। বাংলাদেশে সাদা, লাল ও নীল-এই তিন রঙের শাপলা পাওয়া যায়। আমাদের জাতীয় ফুল সাদা শাপলা।
পরিচয়: পানির নিচের মাটি থেকে প্রথমে মূল বা শিকড় গজায়। আর সে শিকড় থেকে সরু নলের মতো একটি দণ্ড পানি ভেদ করে ওপরে উঠে আসে। অতঃপর পানির ওপরের দণ্ডটি থেকে পাতা বের হয়। পাতা বড় ও পুরু হয়ে পানির ওপর ভাসে। আর মূল থেকে একাধিক শাখা বের হয়। একাধিক শাখাই মূলত শাপলার নল বা ডাঁটা। এসব নলের মাথায় কলার মোচা আকৃতির ফুলের কুঁড়ি ফোটে। ফুলগুলোও পাতার মতো পানির ওপর ভাসে। শাপলা ফোটে বর্ষাকালে।
সৌন্দর্য ও ব্যবহার: বর্ষার জলে শাপলা ফোটার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি
ধরা দেয় নবরূপে। শাপলার সৌন্দর্য এমনভাবে ফুটে ওঠে যে প্রকৃতি রূপে অপরূপ হয়ে ওঠে। শিশু-কিশোররা শাপলা ফুল হাতে নিয়ে আনন্দ উপভোগ করে। তারা শাপলার নল দিয়ে মালা গাঁথে। এর নল, ডাঁটা তরকারি হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।
অপকারিতা: শাপলা অনেক সময় ধান গাছের ক্ষতি করে থাকে। শাপলার চারা বাড়তে থাকা ধানগাছকে বাড়তে দেয় না।
উপসংহার: বর্ষাকালে শাপলা জলজ ফুল হিসাবে প্রকৃতির শোভা বাড়ায়। শাপলা ফুলের তুলনা হয় না।