বাংলাদেশের জাতীয় ফল
[শি.স.প. ‘১৯: সেট কোড-২২৮)
অথবা,
জাতীয় ফল কাঁঠাল
শি.স.প. ‘১৯: সেট কোড-২১২; শি.স.প. ‘১৫)
অথবা,
তোমার প্রিয় ফল
শি.স.প. ‘১৮: সেট কোড-৩১২; শি.স.প. ‘১৭: সেট কোড-২০১।
[ রচনা সংকেত: ভূমিকা আকার-আকৃতি কোথায় বেশি পাওয়া যায় চাষপদ্ধতি ব্যবহার্য অংশ খেতে কেমন কেন প্রিয় উপসংহার।
ভূমিকা: সবুজ শ্যামল বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের উপাদেয় ফল রয়েছে। এসব ফলের বিচিত্র নাম, ভিন্ন রূপ, নানা স্বাদ ও গন্ধ। তেমনি একটি ফল কাঁঠাল। কাঁঠাল গ্রীষ্মের ফল। এ ফল গন্ধ, স্বাদ ও আকৃতিতে বাঙালির অতি প্রিয়। কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল।
আকার-আকৃতি: একটি কাঁঠালের ওজন এক কেজি থেকে বিশ কেজি
পর্যন্ত হতে পারে। কাঁচা কাঁঠাল সবুজ বা সবুজাভ হলুদ কিংবা হলদেটে রঙের হয়ে থাকে। কাঁঠাল গাছ এবং ফল দুটোতেই থাকে সাদা দুধের মতো আঠালো কষ। কাঁঠাল গাছ মাঝারি থেকে বড় হয়ে থাকে। একটি গাছে ধরে অনেক অনেক কাঁঠাল।
কোথায় বেশি পাওয়া যায়: কাঁঠাল বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র পাওয়া গেলেও গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, ময়মনসিংহ এবং যশোর অঞ্চলে এর ফলন বেশি হয়। মূলত লৌহ-সমৃদ্ধ লাল মাটিতে কাঁঠাল ভালো জন্মে। পাহাড়ি কাঁঠালের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট ও বান্দরবানের পাহাড়ে বিশেষ আকারের কাঁঠাল জন্মে।
চাষপদ্ধতি: যেখানে বৃষ্টির পানি জমে না, সেখানে কাঁঠাল গাছ ভালো জন্মে। বীজ এবং কলমের মাধ্যমে কাঁঠাল গাছের বংশবৃদ্ধি ঘটানো যায়। বীজ থেকে চারা উৎপন্ন করে সেই চারা একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিয়ে রোপণ করলে উৎপাদন ভালো হয়।
ব্যবহার্য অংশ: কাঁঠাল অসংখ্য কোষ-সমৃদ্ধ হয়ে থাকে। কাঁচা অবস্থায় তা কেটে রান্না করে খাওয়া হয়। কাঁঠালের সব অংশই ব্যবহার করা যায়। কাঁঠালের কোষ এবং বিচি মানুষের উপাদেয় ও পুষ্টিকর খাবার। এর ছাল গবাদিপশুর খাবার। কাঁঠালের বিচি ভেজে কিংবা রান্না করে খাওয়া যায়।
খেতে কেমন: পাকা কাঁঠালের গন্ধ ও স্বাদ অতুলনীয়। কাঁঠাল পাকার পর এর মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত হয়ে ওঠে। গাছের চারদিকে পাখি বা কীটপতঙ্গ ছুটে আসে এর স্বাদ নিতে।
কেন প্রিয়: কাঁঠাল এমনই একটি ফল যা একা খাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। তাই একটি কাঁঠাল ভেঙ্গে সকলে মিলেমিশে খাওয়ার মজাই অন্যরকম। এছাড়াও এর স্বাদ, গন্ধ আর আমাদের ভূমি কাঁঠাল চাষের উপযোগী। তাই এটির সহজলভ্যতার কারণেও ফলটি আমার খুব প্রিয়।
উপসংহার: কাঁঠাল বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল। বাংলাদেশের উঁচু এলাকায় সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে কাঁঠালের বাগান করে এর উৎপাদন বাড়ানোর প্রতি আমাদের সচেষ্ট হওয়া উচিত।
০৩. জাতীয় মাছ ইলিশ