জাতীয় মাছ ইলিশ
[শি.স.প. ‘১৯: সেট কোড-২১৬, ২৩৫, ২৪৪]
অথবা, তোমার প্রিয় মাছ
রচনা সংকেত: ভূমিকা আবাসস্থল যেসব স্থানে পাওয়া যায়-অর্থনৈতিক গুরুত্ব জেলেদের জীবিকানির্বাহ স্বাদের পার্থক্য খাদ্য
হিসাবে ইলিশ উপসংহার।
ভূমিকা: ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এই মাছ বাংলাদেশে বেশি পাওয়া যায়। এটি একটি সামুদ্রিক মাছ। বাঙালিদের কাছে ইলিশ খুব প্রিয় মাছ। দেশের বাইরেও ইলিশের বেশ চাহিদা রয়েছে।
আবাসস্থল: ইলিশ মাছ গভীর পানির মাছ। এটি সমুদ্রের লোনা পানিতে থাকে। শুধু ডিম পাড়ার সময় হলে এরা নদীতে আসে।
যেসব স্থানে পাওয়া যায়: পৃথিবীর মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশ পাওয়া
যায় বাংলাদেশে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে উৎপাদিত হয় ১৫ শতাংশ এবং মিয়ানমারে ১০ শতাংশ। বাদ বাকি ১০ শতাংশ ইলিশ মেলে আরব সাগরে তীরবর্তী বিভিন্ন দেশ এবং প্রশান্ত আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোতে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: ইলিশের ব্যাপক অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের ব-দ্বীপাঞ্চল, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নদীর মোহনা থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ ধরা হয়। স্থানীয় বাজারে এই মাছ বিক্রি করা হয় এবং সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীরা এই মাছ সরবরাহ করে থাকে। এছাড়া ইলিশ আছ বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
জেলেদের জীবিকানির্বাহ: ইলিশ মাছ চাষ করা যায় না। নদী বা
সাগরে জেলেরা গিয়ে এই মাছ ধরে। জেলেরা সাগরে নৌকা নিয়ে ১০-১৫ দিন থেকে এই মাছ ধরে উপকূলে নিয়ে আসে। আর এই মাছ বিক্রি করে তারা সংসার চালায়।
যাদের পার্থক্য: পদ্মার ইলিশ সবচেয়ে সুস্বাদু। ইলিশ মাছ সাগর থেকেও ধরা হয়। কিন্তু সাগরের ইলিশ নদীর মাছের মতো সুস্বাদু হয় না।
খাদ্য হিসাবে ইলিশ: খাদ্য হিসাবে ইলিশ নিঃসন্দেহে মুখরোচক।
ইলিশ মাছ নানাভাবে রান্না করা যায়। তাই এদের বিভিন্ন নামও রয়েছে। যেমন- সর্ষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, কড়া ভাজা, দোপেয়াজা ও ঝোঁল ইলিশ ইত্যাদি। তবে ভাজা ইলিশের প্রতিই মানুষের আকর্ষণ বেশি।
উপসংহার: ইলিশকে বলা হয় মাছের রাজা। এ মাছের প্রতি আকর্ষণ নেই এমন মানুষ বিরল। আমরা বিনা-পয়সায় এই মাছ সাগর ও নদী থেকে পাই। ঝাটকা ইলিশ ও মা ইলিশ না ধরে আমাদের রক্ষা করা উচিত। ঠিকমতো এদের রক্ষা করতে পারলে এরা আমাদের আমিষের চাহিদা মিটাবার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।